বেকার ও গরিবদের অ্যাকাউন্টে মাসের শেষে টাকা! ঘোষণা মোদীর

সিংহাসনে বসার পর থেকেই একের পর এক স্কিম এবং যোজনার জন্য তৎপর মোদী। জনগণের সুবিধার্থে এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি চালু করে দিয়েছেন। বীমা থেকে শুরু করে দুর্ঘটনা বীমা কিনা করেননি তিনি সাধারণ মানুষের জন্য। আর এই জন্যই সাধারণ মানুষ তাকে জনসাধারণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনে জায়গা দিয়েছে। তার বেশ কিছু যোজনাই সার্বিক উন্নয়নও এনেছে।
এরকমই শোনা যাচ্ছে যে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের জনসাধারণকে বড় উপহার দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, সরকারের শেষ বাজেটেই হতে পারে সেই ঘোষণা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম প্রকল্প (UBI) চালু করার ভাবনাচিন্তা করছে মোদী সরকার। আগামিকাল অর্থাত্ ২৭ ডিসেম্বর বৈঠকে এব্যাপারে আলোচনা হতে চলেছে।
ব্যক্তিগত জীবনকাহিনী | ভারতের প্রধানমন্ত্রী – নরেন্দ্র মোদী

দেশের কয়েকটি রাজ্যে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে মাসের শেষে ফেলা হয় টাকা। এই প্রকল্পটিই এবার দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে মাসের শেষে ফেলা হবে টাকা। যাতে তাঁরা খরচ চালাতে পারেন।

তবে কাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ফেলা হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। শোনা যাচ্ছে, বেকারদের অ্যাকাউন্টে মাসের শেষে একটা অর্থ দেওয়া হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের নীচে ব্যক্তি বা দারিদ্র সীমার নীচে থাকা ব্যক্তিদেরও এই প্রকল্পে সামিল করার ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রের। এনিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের কাছে প্রস্তাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

শোনা যাচ্ছে, ২০ কোটি মানুষ সামিল হতে পারেন এই প্রকল্পে। কোনও শর্ত ছাড়াই মাসের শেষে তাঁদের অ্যাকাউন্ট ঢুকে যাবে টাকা।

ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম প্রকল্পটা কী? এই প্রকল্পের আওতায় মাসের শেষে কোনও শর্ত ছাড়াই একটা নির্দিষ্ট অর্থ ফেলা হয় দেশের নাগরিকের ব্যাঙ্কখাতায়। ১৯৬৭ সালে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মার্টির লুথার কিং জুনিয়র। পাশ্চাত্যের অনেক দেশেই বেকার ভাতার চল রয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ইতিমধ্যেই ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চলেছে পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পে সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে টাকা। পরে সমীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁদের জীবনযাত্রা আমূল বদলে গিয়েছে।
বিশ্বের আর কোথায় কোথায় চলছে এই প্রকল্প? সাইপ্রাস, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রদেশ এবং ব্রাজিল, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, সুইডেন, সুইত্জারল্যান্ড ও ব্রিটেনে ইউবিআই চালু রয়েছে।

তবে ভারতের মতো বড় দেশে, তদুপরি বিশাল জনসংখ্যার দেশে কীভাবে চালু করা যাবে? কী-ই বা হবে মানদণ্ড? তা নিয়ে গত দুবছর ধরে আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।
শুধু সুবিধাভোগীদের সনাক্তকরণই নয়, এই প্রকল্প চালু হলে দরকার হবে প্রচুর অর্থের। সেই টাকা আসবে কোথা থেকে? অর্থ দেওয়া হলেও তার চাপ পড়বে দেশের কোষাগারে। আবার অনেকের মতে, ঘরে বসে বসে ব্যাঙ্কে টাকা আসলে অনেকেই আর কাজে মন দেবেন না। তখন সুলভে শ্রমিক মিলবে না। একশো দিনের কাজ নিয়েও এই অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে। অর্থনীতি থেকে মানদণ্ড- সব দিকই খতিয়ে দেখছে দিল্লি। সূত্রের খবর, ২০১৯ সালের বাজেটের আগেই ঘোষণা হতে পারে ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ প্রকল্প।

তবে ভোটের আগে বাজেটে এই ঘোষণা করতে পারলে বিরোধীদের হাওয়া কেড়ে নিতে পারেন নরেন্দ্র মোদী, মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। ইতিমধ্যেই ১৫ লক্ষ টাকা কবে পাব সেনিয়ে খোঁচা দেন বিরোধী নেতানেত্রীরা। তার মোক্ষম জবাব দিতে পারবেন নমো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *